মাও জমানায় চীন (১৯৪৯ - ১৯৭৮) - পর্ব এক
টংগাং-এ বন্টন এবং সামাজিক রূপান্তরঃ সমাজতন্ত্রে, সংস্কারের সময় এবং আজকের
দিনে চীনের শ্রমিক
মূল রচনাঃ হাও ছি
অনুবাদেঃ চারুদত্ত নীহারিকা রজত
সংগ্রহ সুত্রঃ Aspects of India’s economy
২০০৯ সালের ২৪-শে জুলাই,
চীনের জিলিন প্রদেশের একটি আংশিক বেসরকারি স্টিল উদ্যোগ, টংঘুয়া ইস্পাত কোম্পানির,
(এখন থেকে একে আমরা বলবো টংগাং) হাজার হাজার শ্রমিকেরা, প্রাদেশিক সরকারের
(রাষ্ট্রীয় অংশীদার) দ্বারা চালু করা বেসরকারিকরণের একটি নতুন পর্যায়ের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ করে। ক্ষিপ্ত শ্রমিকেরা, বেসরকারি অংশীদারির প্রতিনিধি, চিফ ম্যানেজারকে
পিটিয়ে মেরে ফেলে। এই সংগ্রামের সাথে সাথে শ্রমিকেরা, সফল ভাবে, আরও বেসরকারিকরণকে,
প্রতিরোধ করে এবং তাদের নিজেদের কাজের নিরাপত্তাকে রক্ষা করে।
এই সংগ্রামের দুটি
বিশিষ্টতার উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। প্রথমত, চীনের চালু করা পুঁজিবাদীমুখি সংস্কার
প্রক্রিয়ার (এবার থেকে শুধু সংস্কার বলা হবে) তিন দশক পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং চীনে
বিপুল ভাবে শ্রমিক লে অফ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগগুলির বেসরকারিকরণের দশ বছর
অতিবাহিত হয়েছিল। এই সংগ্রাম দেখিয়েছিল যে, চীনের শ্রমিক শ্রেণি এই ধারাবাহিক সংস্কার যা,
শ্রমিক শক্তির ক্ষতিসাধন করেছিল, তার দ্বারা পরাজিত হয় নি। দ্বিতীয়ত, টংগাং-এর এই সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছিল
কিছু অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের দ্বারা, যাদের মাও জমানা (১৯৪৯ – ১৯৭৮) এবং সংস্কারের
জমানা (১৯৭৮ পরবর্তী) – দুই-এরই অভিজ্ঞতা
ছিল। সামাজিক পরিবর্তনের এই অভিজ্ঞতা,
তাদেরকে সংস্কারের প্রকৃতি বুঝতে, শ্রমিকদের সংগঠিত করতে এবং সংগ্রামের ক্ষেত্রে কার্যকরী
কৌশল গ্রহণ করতে সাহায্য করেছিল।
এই রচনা, টংগাং-এর কেস
স্টাডি-র উপর ভিত্তি করে, ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার পর থেকে,
চীনের শ্রমিক শ্রেণি যে সামাজিক পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করেছেন, তা চিত্রিত করতে
চেষ্টা করেছে। যেহেতু, বন্টনের ক্ষেত্রে অসাম্য ছিল টংগাং-এর সংগ্রামের অন্যতম
প্রধান কারণ, তাই বন্টন ব্যবস্থার পরিবর্তন, এই রচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। ২০১২ এবং
২০১৩-তে আমি, টংগাং-এ কিছু ফিল্ড ওয়ার্ক করি যেখানে, ৩০ জনের বেশি শ্রমিকের
সাক্ষাৎকার নিই এবং টংগাং-এর ইতিহাস সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক উপাদান সংগ্রহ করি যা,
এই রচনার মূল যোগসূত্র। এই রচনাকে তিনটি
অধ্যায়ে সংকলিত করে উপস্থিত করা হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়, মাও-এর জমানায় শ্রমিকদের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার আলোচনা করা
হয়েছে এবং কেন শ্রমিকেরা এই অধিকার ভোগ করতো, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দ্বিতীয়
অধ্যায় কেন্দ্রীভূত হয়েছে মাও-এর জমানা থেকে সংস্কারের জমানাতে সামাজিক পরিবর্তনের
উপর। তৃতীয় অধ্যায়, চীনের শ্রমিক শ্রেণির বর্তমান অবস্থার কিছু বিশ্লেষণ হাজির
করেছে।
১। মাও-এর জমানাতে শ্রমিকদের
অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকারগুলিঃ
আমি যখন শ্রমিকদের
সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তখন, তারা মাও জমানাতে তাদের কারখানা-জীবনের স্মৃতিচারণা
করতে গিয়ে উল্লেখ করেছিল যে, শ্রমিকরা ছিল কারখানারা প্রভু। নির্দিষ্ট ভাবে বললে,
মাও জমানাতে শ্রমিকরা, বিবিধ অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতো। প্রথমত চাকরির নিশ্চয়তাঃ শ্রমিকদের বসিয়ে দেওয়ার অধিকার কারখানাগুলির ছিল না। যদি রাষ্ট্র
কারখানাটিকে বন্ধ করবার সিদ্ধান্ত নিতো, তাহলে সে শ্রমিকদের নতুন চাকরিতে
পুনর্বাসন দিতো। দ্বিতীয়ত, সুস্থিত আয়ঃ জাতীয় মজুরীর মানদণ্ড অনুযায়ী মজুরী বণ্টন করা হত এবং
আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবা, শ্রমিক এবং তাদের পরিবারকে সস্তায় বা বিনামূল্যে
সরবরাহ করা হত। তৃতীয়ত, অংশগ্রহণ ভিত্তিক ব্যবস্থাপনাঃ শ্রমিকেরা ব্যবস্থাপনায়
অংশগ্রহণ করতো এবং ম্যানেজাররা অংশগ্রহণ করতো কায়িক শ্রমে। চতুর্থত, শ্রমিকদের চার মহান অধিকার
ছিল (স্বাধীন ভাবে কথা বলবার অধিকার, যে কারোর নিজস্ব মতামত প্রকাশ করবার
অধিকার, বিশাল ‘ক্যারেক্টার পোস্টার’ লিখবার অধিকার এবং মহাবিতর্ক পরিচালনা করবার
অধিকার)যার সাহায্যে তারা প্রকাশ্যে
ক্যাডারদের সমালোচনা করতে পারতো।
শ্রমিকেরা কেন এই অধিকারগুলি
ভোগ করতো? মাও জামানার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকারগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিল
না; প্রকৃতপক্ষে, সেই যুগের উৎপাদনের মডেল এর প্রয়োজনীয় শর্ত-ই ছিল এই অধিকারগুলি।
প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময় (১৯৫২-১৯৫৬), চীন, উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনার
সোভিয়েত মডেল থেকে শিখেছিল, যেখানে ম্যানেজার ব্যবস্থাপনার ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ
করতো, আর শ্রমিকরা ম্যানেজারের নির্দেশকে মেনে চলতে বাধ্য ছিল। উপরন্তু, সোভিয়েত
মডেল বস্তুগত উৎসাহ প্রদান চালু করেছিল, উৎপাদনে শ্রমিকদের উৎসাহকে বজায় রাখতে।
সোভিয়েত মডেলের এই দিকেগুলি
শ্রমিকদের জন্য স্পষ্ট ক্ষতি স্বরূপ ছিলঃ এটি শ্রমিকদের উৎপাদনের সাবজেক্ট হিসাবে
না দেখে, যন্ত্র হিসাবে বিচার করতো।; এটি ম্যানেজারকে “ডিভাইড অ্যান্ড কঙ্কার”
নীতি নিতে অনুমোদন দিত যেহেতু, সকল শ্রমিকের বস্তুগত উৎসাহ প্রদানের দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, বস্তুগত
উৎসাহ প্রদান, পুঁজিবাদী ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৫৮
সালে, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কালের কয়েক বছর পরে, মাও জেদং, বস্তুগত
উৎসাহ প্রদানের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপণের জন্য, রাজনৈতিক অর্থনীতির সোভিয়েত পাঠ্যপুস্তকের সমালোচনা
করেন।
(পাঠ্যপুস্তকটি) একথা বলে না
যে, যদি সমস্ত মানুষের আগ্রহকে অর্জন করা যায়, তাহলে ব্যক্তির আগ্রহকেও অর্জন করা
যায়; পাঠ্যপুস্তকের বস্তুগত উৎসাহ প্রদানের উপর গুরুত্ব আরোপণ, প্রকৃতপক্ষে, একটি
অত্যন্ত অদূরদর্শী ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদ।
সক্ষমতার অনুসার হতে,
কর্মক্ষমতার অনুসার অবধিঃ বাক্যের প্রথম অংশের অর্থ হল, উৎপাদনের ক্ষেত্রে জনগণ
তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা প্রদান করবে। লোকেরা কেন এই বাক্যটিকে প্রথম অংশ ছাড়া
বোঝে এবং সবসময় বস্তুগত উৎসাহ প্রদানে জোর দেয়? [সুত্রঃ Mao, Zedong, Mao’s Notes
and Talks on Reading Socialist Political Economy (Beijing: National History
Academy, 1998)]
১৯৬০ সালে, আনগাং ইস্পাত
কারখানায়, বিখ্যাত আনগাং সংবিধানের প্রস্তাব করা হয়। সোভিয়েত মডেলের বিকল্প হিসাবে
একগুচ্ছ উদ্ভাবক ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতির আনসাং সংবিধান জোর দিয়ে বলে, উৎপাদনে
শ্রমিকের উৎসাহের ভিত্তি হবে শ্রমিকদের চেতনার মানের উপরঃ শ্রমিকদের এটা উপলব্ধি
করতে হবে যে, তারাই কারখানার প্রভু এবং এই উৎপাদন, সামগ্রিক ভাবে শ্রমিক শ্রেণির
স্বার্থকেই পুষ্ট করবে। [সুত্রঃ Stephen Andors, China's Industrial Revolution:
Politics, Planning, and Management, 1949 to the Present (New York: Pantheon
Books, 1977)]
শ্রমিকদের কারখানার মালিক
হিসাবে গড়ে তুলতে, তিনটি শর্তকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে। সবার প্রথমে, উৎপাদন এবং
ম্যানেজমেন্ট, শ্রমিক এবং ম্যানেজারের মধ্যেকার বিভাজনকে দুর্বল করবে; এতে করে
শ্রমিকেরা ম্যানেজমেন্ট-এ অংশগ্রহণ করবে এবং ম্যানেজাররা অংশগ্রহণ করবে কায়িক
শ্রমে। এর সাথে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ম্যানেজারদের সমালোচনা করবার রাজনৈতিক
অধিকার শ্রমিকদের থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, শ্রমিকদের চাকরির সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং
সুস্থিত আয় থাকতে হবে; অন্যথায়, তাদেরকে তাদের জীবন ধারণের জন্য উদ্বেগে থাকতে হবে
এবং এতে করে উৎপাদনের বিকাশে তারা তাদের পূরণ সক্ষমতা দিতে পারবে না। তৃতীয়ত, বস্তুগত
উৎসাহ প্রদানকে বাতিল করতে হবে যেহেতু, আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, তা ম্যানেজারদের
ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। সাথে সাথে, শ্রমিকদের স্বল্পকালীন ব্যক্তিগত স্বার্থ,
শ্রমিক শ্রেণির সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এটি
বিশেষত, চীনের মতন একটি দেশে হতে পারে যাকে একইসাথে দুটি ঐতিহাসিক কাজকে সামলাতে
হয়েছেঃ একটি কাজ হল শিল্পায়নের কাজ, এবং অপরটি হল শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নতি। যদি
উৎপাদনে শ্রমিকদের উৎসাহের ভিত্তি বস্তুগত উৎসাহ প্রদান হয়, তাহলে শ্রমিকদের আরও
বেশি মজুরী এবং কম সঞ্চয়ের প্রয়োজন হবে এবং শ্রমিক শ্রেণির দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থকে
কেউ পাত্তা দেবে না।
সুতরাং, মাও জামানায়,
শ্রমিকদের ভোগ করা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকারগুলি, এবং সেই অধিকার ভোগের
মাধ্যমে গড়ে ওঠা তাদের চেতনা, সেই যুগের উৎপাদনের মডেলের ভিত্তি নির্মাণ করেছিল।
যেহেতু, বস্তুগত উৎসাহ প্রদান, উৎপাদনের মডেলের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল, একক ভবে একটি
কারখানার, শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির অধিকার ছিল না, এবং শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তা ও
শ্রমিকের জীবনধারণের মানকে বিবেচনার মধ্য দিয়ে, একমাত্র রাষ্ট্রই সিদ্ধান্ত নিতে পারতো কখন ও কিভাবে মজুরী
বাড়ানো হবে।
এক
নম্বর চার্ট (নিচে দেখুন), মাও জমানায় প্রকৃত মজুরীর স্তরের একটি মোটামুটি ছবি
দিচ্ছে যা থেকে একজন এটা দেখতে পাবে যে, প্রকৃত মজুরী প্রায় একই ছিল। এটি মূলত
ঘটেছিল ন্যুন্যতম মজুরীর স্তরের স্থবিরতার কারণে। টংগাং-এর উদাহরণ নিলে, ১৯৫৮ সালে
টংগাং-এর প্রতিষ্ঠার পর, মজুরী বৃদ্ধি ঘটেছিল ১৯৫৯, ১৯৬৩, ১৯৭১ এবং ১৯৭৭ সালে।
উপরন্তু, এই মজুরী বৃদ্ধি থেকে সমস্ত শ্রমিক উপকৃত হয় নি; ১৯৬৩ এবং ১৯৭৭ সালে
যথাক্রমে, মাত্র ১৪% এবং ৩০% শ্রমিক এই মজুরী বৃদ্ধি পেয়েছিল। [সুত্রঃ Tonghua
Steel Company, Tonggang History 1958-1985, unpublished book.]
Sources: National Statistical Bureau, New China in the Past Sixty Years (Beijing: China Statistics Press, 2009).
মাথায় রাখতে হবে, মজুরীর
স্থবিরতা মানেই এটা নয় যে, প্রকৃত মজুরীর
স্তর, শ্রমিকদের জন্য খুবই কম ছিল। এটা অবশ্যই সত্যি যে, আজকের দিনের
পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করলে, মাও জমানার শ্রমিকদের অবস্থাকে দরিদ্র বিবেচনা করতে
হবে। অবশ্য, মূলত পরবর্তীতে উল্লেখিত কারণগুলির
জন্য, আমার সাক্ষাৎকার নেওয়া শ্রমিকদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে যে, মাও জমানায়
তাদের জীবন আরও ভালো ছিল।
প্রথমত, আজকের দিনের
ক্রমবর্ধমান ব্যয়বহুল আবাসন, শিক্ষা এবং চিকিৎসা পরিসেবার সাথে তুলনায়, যাকে বলা
হয় “শ্রমিকের পিঠের তিনটে বিরাট পাহাড়”, শ্রমিকদের আবাসন, শিক্ষা এবং চিকিৎসা পরিসেবার জন্য খুবই
সামান্য ব্যয় করতে হত। মাও জমানায়, টংগাং-এ, ন্যুন্যতম মজুরীর স্তর ছিল বাৎসরিক
৬০০ ইউয়ান। [সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang History 1958-1985,
unpublished book] শ্রমিকেরা তাদের মজুরীকে মূলত আবশ্যিক ভোগ্যপণ্যে, যথা খাবার
জামাকাপড়ে খরচ করতো। গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড আন্দোলনের সময়, শহরের জনসংখ্যার
অস্থিতিশীল সম্প্রসারণের পরে, চীন শহরের জনগণের কাছে, আবশ্যিক ভোগ্যপণ্যকে রেশনের
মাধ্যমে সরবরাহ করা শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্য সরবরাহের মানদণ্ড অনুযায়ী, ভারি
কায়িক শ্রম দিচ্ছে এমন শ্রমিক, প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৪.৫ কিলো এবং একজন ম্যানেজার
১৩.৫ থেকে ১৬ কিলো দানা শস্য কিনতে পারতো। আবশ্যিক ভোগ্য পণ্যের দামের ওঠাপড়া
প্রায় ছিলই না। ১৯৮০ সালে, দানা শস্যের জাতীয় গড় মুল্য ছিল কিলো প্রতি ০.৩ ইউয়ান।
[সুত্রঃ National Bureau of Statistics, China Statistical Yearbook 1981
(Beijing: China Statistics Press, 2012)]
আবাসন, শিক্ষা এবং চিকিৎসা
পরিষেবা, সমস্ত কিছু টাংগাং বা টাংগাং-এর সাথে যুক্ত স্কুল এবং হাসপাতালগুলি
সরবরাহ করতো। যে সমস্ত শ্রমিকদের আমি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তারা আমাকে বলেছিল যে,
যদি পরিবারের মাথা পিছু মাসিক আয় ৮ ইউয়ানের কম হত, তাহলে স্কুলের ফিস মুকুব করা
যেত। যদি মাথা পিছু মাসিক আয় ১০ ইউয়ানের কম হত, পরিবার ইউনিয়নের থেকে ভর্তুকি পেতে
পারতো। [সুত্রঃ Wages, Benefits and Social Insurances in the Contemporary China,
Beijing: Social Science Press, 1987]। যদি আমরা প্রতি মাসে ১০ ইউয়ান আয়কে দারিদ্র
সীমা বলে ধরে নি, একজন শ্রমিকের এই মজুরী, পাঁচজনের একটি পরিবারের ভরণপোষণ করতে
পারতো, যেটা ব্যাখ্যা করে যে কেন, যে শ্রমিকদের আমি সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তারা,
এমনকি, যদি তাদের একটি বড় পরিবারও থাকতো এবং তাতে একজনই মজুরী ভিত্তিক চাকরিতে
নিযুক্ত থাকতো, মাও জমানায় কোনও অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করতো না।
দ্বিতীয়ত, চাকরির নিশ্চয়তার
কারণে, মাও জমানায় শ্রমিকেরা এটা প্রত্যাশা করতে পারতো যে, উৎপাদনের বিকাশের সাথে
সাথে, তাদের জীবন মানের উন্নতি হবে; যেখানে, সংস্কারের যুগে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি যত
দ্রুতই হোক না কেন, শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে বাঁক নিয়েছে।
তৃতীয়ত, মাও জমানায়,
ম্যানেজার এবং শ্রমিকের মধ্যেকার অর্থনৈতিক অসাম্য ছিল সামান্য, নিচু স্তরের
ম্যানেজাররা, শ্রমিকদের গড় মজুরীর চেয়ে কম মজুরী পেত। শ্রমিকদের রাজনৈতিক অধিকারের
কারণে, ম্যানেজার এবং শ্রমিকদের মধ্যে একটি বাধ্যতামূলক বৈষম্যও ছিল। পরবর্তী
অধ্যায়ে আমরা দেখবো, সংস্কারের যুগে, এই অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক ভাবে প্রসারিত
হয়েছিল এবং শ্রমিকদের সমস্ত রাজনৈতিক অধিকারগুলি বাতিল হয়েছিল।
শেষে এটা বলা যায়, মাও
জমানা, চীনা শ্রমিক শ্রেণিকে একটি ব্যাপক সমাজতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা প্রদান করেছিল।
শ্রমিকদের কাছে, সমাজতন্ত্র কোনও পাঠ্যপুস্তকের ধারণা মাত্র ছিল না; এটি ছিল মাও
জমানার একটি মজবুত বোঝাপড়া যেটি, আরও বেশি বেশি করে স্পষ্ট হয়েছে যখন, শ্রমিকেরা মাও
জমানার সাথে সংস্কারের জমানার তুলনা করে। সমাজতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা, শ্রমিকদের কাছে
এটি প্রতিষ্ঠিত করে যে, পুঁজিবাদ বাঁ বেসরকারিকরণ একমাত্র বিকল্প নয় এবং পুঁজিবাদী
ছাড়াই উৎপাদনের বিকাশ ঘটানো যায়। যদি সমাজতন্ত্র কাজ করে, তাহলে টংগাং-এর ব্যক্তি
পুঁজির প্রয়োজন কোথায়? বেসরকারিকরণের প্রতি শ্রমিকদের আচরণ, প্রাথমিক
বেসরকারিকরণের পর্যায়ে, ব্যক্তিগত অংশীদারিদের ভুমিকাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল এবং
দ্বিতীয় পর্যায়ের বেসরকারিকরণ যখন এলো, তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভিত্তিভুমি প্রস্তুত
করেছিল।
২। মাও জমানা থেকে সংস্কারের জমানায়
পরিবর্তন:
১৯৫৮ সালে যখন টংগাং স্থাপিত
হয়, দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে ১৩ হাজারের অধিক শ্রমিক টংগাং-এর দ্বারা নথিবদ্ধ
হয়েছিল। [সুত্রঃ Sources: Tonghua Steel Company, Tonggang History 1958-1985,
unpublished book.]। নির্মাণের সময়কালে, শ্রমিকদের তাঁবুতে থাকতে হত এবং ভোরে তারা
দেখতো যে, তাদের কম্বলের সামনে বরফ জমে রয়েছে। এ কথা না বললেও চলে যে, এই ইস্পাত
কারখানার প্রতিষ্ঠায়, শ্রমিকেরা মহান অবদান রেখেছিলেন, বিশেষত ১৯৫০-এর
যান্ত্রিককরণের অভাবের কথা মাথায় রেখে এ কথা বলা যায়। আমার সাক্ষাৎকারে, ১৯৫৮ সালে
টংগাং- এ আসা একজন অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিককে একজন যুবা শ্রমিক এই বলে প্ররোচিত করেছিল
যে, ১৯৫০ সালের কায়িক শ্রম, আজকের দিনের উন্নত যন্ত্রপাতি যা কাজ করে, তার তুলনায়
নগণ্য। সেই অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকটি উত্তর দিয়েছিলেন, “আমাদের প্রচেষ্টা ছাড়া, ঐ
যন্ত্রপাতিগুলি কোত্থেকে আসতো?”
যদিও, এই সংস্কার,
পর্যায়ক্রমে, শ্রমিকদের দ্বারা সৃষ্ট মুল্যকে, পুঁজির অংশীদারি এবং কারখানার
প্রভুকে একটি মুনাফামুখি সংস্থার মজুরী দাসে পরিণত করেছিল। সাধারণভাবে বললে,
সংস্কারের যুগে টংগাং-এর ইতিহাসকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে।
সংস্কারের প্রথম পর্যায়
প্রথম পর্যায়ে (১৯৭৮ –
১৯৯৫), টংগাং, মাও জমানার মডেলকে প্রতিস্থাপিত করবার জন্য, বস্তুগত উৎসাহ প্রদান
চালু করে। মাও জমানার পতনের সাথে সাথে, রাজনৈতিক অধিকারগুলিকে বাতিল করা হয় এবং
ম্যানেজমেন্টে, ম্যানেজারদের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা হয়। মাও জমানার উৎপাদনের
ভিত্তিকে হারিয়ে, শ্রমিকদের উৎসাহকে বজায় রাখতে, বস্তুগত উৎসাহ প্রদান কে চালু
করতেই হতো এবং সংস্কারের পক্ষে সমর্থনের জন্য শ্রমিকদের ঘুষ দিতেই হতো। ফলত,
টংগাং-এ, মোট মজুরীর উপর বোনাসের ভাগ, ১৯৭৮ সালের ২% থেকে দ্রুত বেড়ে ১৯৮০ সালে
১০%-এর বেশি বৃদ্ধি পায়। [সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang History
1958-1985, unpublished book.]। পাশাপাশি, মজুরীর বৃদ্ধিকে মুনাফার বৃদ্ধি, কর এবং
শ্রমের উৎপাদনশীলতার সাথে যুক্ত করে, টংগাং-এ মজুরী বৃদ্ধিকে প্রাতিষ্ঠানিক করে
দেওয়া হয়। অধিকাংশ শ্রমিকই, এই মজুরী বৃদ্ধির ফলে উপকৃত হতে পারতো।
শ্রমিকদের উৎপাদনে উৎসাহের
ক্ষেত্রে, এই বস্তুগত উৎসাহ প্রদানের ফল কি হয়েছিল? আমার সাক্ষাৎকার নেওয়া একজন
শ্রমিক বলেছিলেন, “তারা কাজ করে একটা পর্যায় পর্যন্ত, কিন্তু তারা দীর্ঘক্ষণ কাজ
করে না। প্রকৃতপক্ষে, আমি যেভাবেই কাজ করি না কেন, আমার মজুরীকে বাড়তেই হবে; অন্যথায়,
আমি ম্যানেজারের কাছে গিয়ে জানতে চাইবো, “তুমি কিভাবে আমাকে বাদ দিয়ে বাকিদের
মজুরী বাড়ালে?”” এই প্রতিক্রিয়া দেখায় যে, প্রথম পর্যায়ে, ম্যানেজমেন্ট মডেল
নিজেকে রক্ষা করতে পারে নি কারণ, তখনও শক্তিশালী শ্রমিক শ্রেণি, আজ হোক বা কাল,
মুনাফাকে বের করে নিতো। সংস্কারের যুগের প্রথম পর্যায়ের সমৃদ্ধির পর, টংগাং, রাষ্ট্রীয় নীতির দ্বারা
আক্রান্ত হয়েছিল, যে নীতির লক্ষ্য ছিল মধ্য ৯০-এর দশকের গুরুতর মুদ্রাস্ফীতিকে
নিয়ন্ত্রণ করা। মুনাফার পতন, প্রথম পর্যায়ে, ম্যানেজমেন্ট মডেলের সমাপ্তিকে
চিহ্নিত করেছিল।
সংস্কারের দ্বিতীয় পর্যায়
কাজেই, দ্বিতীয় পর্যায়ে
(১৯৯৬ – ২০০৫), টংগাং, শ্রমিকদের অধিকারকে বাতিল করতে বিভিন্ন প্রকারের একাধিক
কার্যক্রম গ্রহণ করেছিল।
সবার প্রথমে, লাগাতার মজুরী
বৃদ্ধিকে রদ করা হয়। ১৯৯৬ সালে, চিফ ম্যানেজার ঘোষণা করলেন, “মজুরী এবং
সুযোগসুবিধা বিষয়ে আইন এবং সরকারের নথি যা স্থির করেছে তা, একমাত্র তখনই পাওয়া
যেতে পারে যখন টংগাং তা দেবার মতন সক্ষম হবে। তাই অনেক উদ্যোগই, তাদের শ্রমিকদের
কোনও মজুরী আজকাল দিতে পারে না। টংগাং বরাবরের জন্য মজুরী বৃদ্ধিকে চালিয়ে যেতে
পারে না।“[সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang Yearbook 1997, unpublished
book.]। এই ঘোষণা, শ্রমিক এবং উদ্যোগের অন্তর্নিহিত বঝাপ্রার সমাপ্তিকে চিহ্নিত
করেছিল যার দ্বারা, উদ্যোগ, শ্রমিকদের লাগাতার মজুরী বৃদ্ধি চালিয়ে যেত যাতে,
শ্রমিকদের উৎপাদনে উৎসাহ থাকে।
দ্বিতীয়ত, টংগাং, গ্রামিক
অঞ্চলের পারিয়ারি শ্রমিকদের দিকে, কাজের বাহির চালান করতো। প্রথাগত শ্রমিকদের
তুলনায় পারিয়ারি শ্রমিকদের মজুরী ছিল গড়ে অর্ধেক। পাশাপাশি, টংগাং, পারিয়ারি
শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে ছাঁটাই করতে পারতো। ১৯৯৬ সালে, পারিয়ারি শ্রমিকদের ১ কোটি
৩০ লক্ষ ইউয়ান দেওয়া হয়েছিল যা, যা কোম্পানির বেতন খাটে খরচের ৯ শতাংশ সাশ্রয়
করেছিল। [সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang Yearbook 1997, unpublished
book.]। এইভাবে, টংগাং, প্রথাগত শ্রমিকদের, পারিয়ারি শ্রমিকদের দ্বারা
প্রতিস্থাপিত করা শুরু করেছিল।
তৃতীয়ত, টংগাং, শ্রমিকদের
চাকরির নিশ্চয়তাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। সংস্কারের যুগের শুরুতে, টংগাং-এর শ্রমিক
ছাঁটাই-এর অধিকার ছিল না। ১৯৮৫ সালে, টংগাং, সমস্ত নব নথিবদ্ধ শ্রমিকদের লেবার
কন্ট্রাক্টে সাক্ষর করতে বলল যা, শ্রমিক এবং কারখানার মধ্যেকার মজুরী ও কাজের
সম্পর্কের আইনি ভিত্তি স্থাপনের পৃষ্ঠভুমি রচনা করেছিল। ১৯৯৫ সালে, এই শ্রম
চ্যুক্তি ব্যবস্থা, সমস্ত শ্রমিককে দীর্ঘমেয়াদি চ্যুক্তিতে বেঁধে ফেলল। [সুত্রঃ Tonghua
Steel Company, Tonggang History 1986-1996, unpublished book.]। অবশ্য, দীর্ঘ
মেয়াদি চ্যুক্তি শ্রমিকদের জন্য চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে আসে নি। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সালের
মধ্যে, ৮ হাজার শ্রমিক, বা টংগাং-এর মোট নিযুক্ত শ্রমিকের ২২% কে লে অফ করা হয়।
[সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang Yearbook 2001, unpublished book.]।
বিদ্রুপটা হল এই যে, যে
শ্রম-চ্যুক্তি ব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার, পরিণত হল
ম্যানেজমেন্টের শ্রম শোষণের সুবিধা সৃষ্টিকারী একটি যন্ত্রে। ২০০০ সালে,
ম্যানেজমেন্ট দাবি করলো যে, ১৯৯৫ সালে চালু হওয়া চ্যুক্তি ব্যবস্থা “কার্যকরী হবার
জন্য খুবই পুরানো”। [সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang Yearbook 2001,
unpublished book.]। ম্যানেজমেন্টের এই দাবির কারণ হল, যদি ১৯৯৫ সালের চ্যুক্তি
টিকে থাকে, শ্রমিক ছাঁটাই বেআইনি হয়ে থাকবে। এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে বেরিয়ে
আস্তে, ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন ছিল দশ বছরের কম সময় কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত শ্রমিকের
যাতে তিন বছরের দীর্ঘ মেয়াদি চ্যুক্তিকে বদলিয়ে ফেলা যায়।
চতুর্থত, টংগাং, বেসরকারিকরণের উদ্দেশ্যে তার
সম্পদকে পুনর্গঠন করে। লে অফ হওয়া শ্রমিকের স্বার্থকে বলি দিয়ে, এবং অর্থনীতির
উন্নতিকে ধন্যবাদ, ২০০০ সালে টংগাং-এর অর্থনীতি সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসেঃ মোট
মুনাফা, ২০০২ সালের ১ কোটি ৫ লক্ষ ইউয়ান থেকে বেড়ে, ২০০৪ সালে ৮ কোটি ৫২ লক্ষ
ইউয়ান হয়। [সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang Yearbook 2005, unpublished
book.]। প্রাদেশিক সরকার (সেই সময় টংগাং-এর একক অংশীদার) এবং ম্যানেজমেন্ট মনে
করেছিল যে, এটাই বেসরকারিকরণের সঠিক সময়। ২০০৫ সালে, টংগাং নিজেকে পুনর্গঠিত
করেছিল, সমস্ত অলাভজনক ব্যবসা থেকে মুক্তি পেতে (নথিবদ্ধ খনি, কারখানা, স্কুল
প্রভৃতি) সেগুলিকে কর্মচারীদের কাছে বিক্রি করে বা স্থানীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর
করে। এইভাবে টংগাং, ঐ সব ব্যবসাগুলিতে কর্মরত শ্রমিকদের থেকেও মুক্তি পেয়েছিল।
দারুণ একটা লাভজনক ব্যবসাকে, টংগাং এবং তথাকথিত “স্ট্র্যাটেজিক অংশীদার” যে কিনা একটি ব্যক্তি
মালিকানাধীন স্টিল উদ্যোগ, একসাথে, টংগাংকে একটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে রূপান্তরিত করেছিল। সমস্ত অবশিষ্ট
শ্রমিকেরা নতুন কোম্পানির সাথে নতুন শ্রম চ্যুক্তি সই করেছিল। [সুত্রঃ Tonghua
Steel Company, Tonggang Yearbook 2006, unpublished book]। বেসরকারিকরণের পর,
টংগাং প্রকৃতপক্ষে, ব্যাক্তিগত অংশীদারের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে যে কিনা, চালু
করে নিষ্ঠুর ম্যানেজমেন্ট, মজুরীর স্থবিরতা, শ্রমিকের সুযোগসুবিধা বাতিল (যেমন
শ্রমিকের ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা) এবং বেকারির ছড়ি ঘুরিয়ে শ্রমিকদের ভয় দেখানো।
টংগাং-এর
ইতিহাস কোনও অদ্বিতীয় ইতিহাস নয়। প্রকৃতপক্ষে, সমগ্র দেশের জন্য সংস্কারের যুগকে,
১৯৯০ এর দশকের প্রথম অংশকেও টারনিং পয়েন্ট ধরা সহ, দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
Sources: Wage and CPI data is from National Statistical Bureau, New
China in the Past Sixty Years (Beijing: China Statistics Press, 2009).
The housing price index is from various issues of China Statistical Yearbook.
দ্বিতীয়
চার্টটি দেখাচ্ছে, সংস্কারের যুগে প্রকৃত মজুরীর বিভিন্নপরিমাপঃ প্রথম পরিমাপটিতে কনজিউমার প্রাইস
ইন্ডেক্স (এর পর থেকে একে সিপিআই বলা হবে) ব্যবহার করেছে প্রকৃত মজুরীকে হিসেব
করতে, অন্যদিকে দ্বিতীয় পরিমাপটিতে (২০০৩-২০১২ পর্যন্ত পাওয়া গেছে) হাউজিং প্রাইস
ইন্ডেক্স ব্যবহার করেছে যেহেতু সিপিআই, বর্তমান যুগের বিস্ফোরক আবাসন মুল্যকে
বিবেচনা করে না। যদিও, দ্বিতীয় পরিমাপটি একটি মোটা দাগের পরিমাপ যা তথ্য প্রাপ্তির
সীমাবদ্ধতার দ্বারা সীমাবদ্ধ, তবে যে কেউ এটা দ্বিতীয় চার্ট থেকে বুঝবে যে, সংস্কারের প্রথম
যুগে প্রকৃত মজুরী দ্রুত বেড়েছে, কিন্তু বর্তমান যুগে এই বৃদ্ধি অনেক মন্থর।
Sources: Tien-tung Hsueh and Qiang Li, China's National Income:
1952-1995 (Boulder: Westview Press, 1999). National Statistical
Bureau, Data of Gross Domestic Product of China 1952-2004 (Beijing:
China Statistics Press, Beijing 2006. National Statistical Bureau, China
Statistic Yearbook various issues from 2006 to 2012 (Beijing: China
Statistics Press). Ministry of Agriculture, New China's Agriculture in
Sixty Years (Beijing: China Agriculture Press, 2009). Siwei Cheng,
eds, China Non-public Ownership Economy Yearbook 2010 (Beijing:
Democracy and Construction Press, 2010).
তৃতীয় চার্টটি দেখাচ্ছে,
সংস্কারের যুগে শ্রম বিভাগ, বা মোট মুল্য যুক্ত মজুরীর ভাগ। শ্রমের ভাগকে,
পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে শ্রমিকের ক্ষমতার বিস্তারের একটি পরিমাপ হিসাবে বিবেচনা করা
যেতে পারে। যে কেউ তৃতীয় চার্ট থেকে বুঝবে যে, ১৯৯০ এর প্রথম ভাগে একটি টারনিং
পয়েন্ট সংঘটিত হয়েছে, যা এটাই বোঝায় যে, এর পর থেকে শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতা হ্রাস
পেতে শুরু করেছে।
সংস্কারের যুগে, ১৯৯০ এর
প্রথম ভাগে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগগুলির সংস্কার, গ্রামীণ অঞ্চল থেকে শহরে
পারিয়ারি শ্রমিকদের ব্যাপক প্রবেশ এবং শ্রমিকের সুযোগসুবিধার ক্ষয়, সব মিলিয়ে
শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতাকে খর্ব করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগগুলির সংস্কার,
মূলত সংঘটিত হয় ১৯৯৭ সালে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পঞ্চদশ সম্মেলনের পরে যাতে করে,
৩ কোটির বেশি শ্রমিককে লে অফ করা হয়। শহুরে লে অফ হওয়া শ্রমিক এবং গ্রামের
আংশিকভাবে নিযুক্ত শ্রমিক বাহিনী, বিরাট ভাবে মজুত শ্রম বাহিনীকে বাড়িয়ে তোলে যা,
উল্লেখযোগ্য ভাবে মজুরী বৃদ্ধিকে আটকে দেয়। ইতিমধ্যে, আবাসন, শিক্ষা এবং চিকিৎসা
পরিষেবার বাজারি সংস্কার, শ্রমিকদের, আবশ্যিক চাহিদা পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম
করতে বাধ্য করে।
চীনের অন্যান্য জায়গার মতন,
টংগাং-এ, শ্রমিকের ক্ষমতাকে খর্ব করবার মধ্য দিয়ে বন্টন ব্যবস্থা ক্রমশ আরও বেশি
বেশি করে ম্যানেজারদের পক্ষে সুবিধাজনক হয়ে উঠলো; ফলত, বন্টনের অসাম্য মারাত্মক
ভাবে বেড়ে গেল। প্রকৃতপক্ষে, অসাম্য-ই ছিল, ২০০৯ সালের ২৪শে জুলাই-এর ঘটনার
প্রত্যক্ষ কারণ।
১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল,
মজুরীর মানদণ্ড অনুযায়ী, শ্রমিক এবং ম্যানেজারদের মধ্যেকার পার্থক্য মাও জমানার
কাছাকাছি ছিল। ১৯৯৯ সালে, টংগাং মজুরী এবং বেতনের উপর সংস্কার চালায় যাতে, জোর
দেওয়া হ্যঃ প্রথমত বণ্টনকে অবশ্যই “কাজ অনুযায়ী বন্টন”-কে অঙ্গীভূত করতে হবে, সাথে
“উৎপাদনের ফ্যাক্টরস অনুযায়ী বন্টন” (যথা পুঁজিকে অন্তর্ভুক্ত করা); দ্বিতীয়ত, বণ্টনকে
অবশ্যই ম্যানেজমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে প্রতিফলিত করতে হবে; তৃতীয়ত, মজুরী
তখনই প্রদান করা হবে যখন মুনাফা অর্জন করা যাবে। এই নীতিগুলি, ম্যানেজমেন্টকে
দেওয়া বিপুল বোনাস এবং ব্যক্তিগত অংশীদারিদের মুনাফা দেবার আইনি জমি প্রস্তুত করে।
[সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang Yearbook 2000, unpublished book.]।
২০০০ সালে, সরকারি নথিতে এটি
স্থিরীকৃত হয় যে, যদি শ্রমের উৎপাদনশীলতা এবং মুনাফা বছরে ৮% হারে বৃদ্ধি পায়, তবে
মজুরী ৬% থেকে ৮% বৃদ্ধি করা যাবে। [সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang Yearbook
2001, unpublished book.]।
২০০৪ সালে, একজন নিম্ন পদস্থ
ম্যানেজার, বছরে ১৫ হাজার ইউয়ান বোনাস পেতে পারতেন যা কিনা, ২০০৩ সালের সমস্ত
কর্মচারীর গড় মজুরীর ১.৬ গুণ! ২০০৫ সালে, টংগাং, মধ্য পদস্থ ম্যানেজারদের জন্য
একটি বাৎসরিক ভিত্তিক মাইনে চালু করে যাতে একজন মধ্য পদস্থ ম্যানেজারের প্রাপ্য
হত, সমস্ত কর্মচারীর গড় মজুরীর ৬ গুণ! [সুত্রঃ Tonghua Steel Company, Tonggang
Yearbook 2005, unpublished book.]।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল এই
যে, ২০০৫ সালে, বেসরকারিকরণকে তুলে ধরবার প্রচেষ্টার পুরস্কার হিসাবে, সর্বোচ্চ
ম্যানেজমেন্ট, ১০ কোটি ইউয়ানের সমমূল্যের, কোম্পানির জয়েন্ট স্টক পেয়েছিলেন। [সুত্রঃ Tonghua
Steel Company, Tonggang Yearbook 2006, unpublished book.]। বেসরকারিকরণের মধ্য
দিয়ে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সর্বোচ্চ ম্যানেজাররা, সেই উদ্যোগের মালিকে পরিণত হল।
বণ্টনের এই অসাম্যের
তথ্যগুলির সবই পাওয়া যাবে টংগাং দ্বারা প্রকাশিত ইয়ারবুকগুলিতে। এর সাথে, যে সমস্ত
শ্রমিকদের আমি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম,, তারা অসাম্য এবং দুর্নীতির অনেক কাহিনী বলতে
পারবে। এই সমস্ত তথ্য এবং (হয়তো সত্য) কাহিনীগুলি এটাই প্রতিভাত করে যে, বণ্টনে
অসাম্যই ছিল, শ্রমিক এবং উদ্যোগের মধ্যেকার বিরোধের শাঁস।
শ্রমিকেরা, যারা মাও জমানা
এবং সংস্কারের জমানাকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন তারা, সাক্ষী থেকেছেন এই বিশাল সামাজিক
পরিবর্তনের। সুতরাং, তাদের পক্ষে এটি কোনও কঠিন বিষয় ছিল না এটা খুঁজে বের করা যে,
পুঁজিবাদী-মুখী সংস্কার প্রথিত হয়ে আছে বণ্টনের অসাম্যের ভিতর এবং এই সংস্কারের
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হল শ্রমিকদের লে অফ করা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন
সম্পত্তির বেসরকারিকরণ করা। এমনি একজন শ্রমিক যাকে আমি সাক্ষাৎকার করেছিলাম,
টংগাং-এর ম্যানেজারকে “নব্য পুঁজিবাদী” বলে উল্লেখ করেছিল কারণ তারা তাদের পুঁজিকে
আহরণ করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধি সম্পদের বেসরকারিকরণের মাধ্যমে, যা “প্রথাগত
পুঁজিবাদীদের” থেকে আলাদা, যারা পুঁজি আহরণ করে তাদের নিজেদের পুঁজি থেকে। এই
শ্রমিকদের কেউ কেউ, কাজের দাবিতে আন্দোলন, বেকারি ক্ষতিপূরণ, সুযোগসুবিধা প্রভৃতি
আন্দোলনের ক্ষেত্রে অনেক শ্রমিকের নেতা হয়ে উঠেছিল যেটা কিনা ২০০৯ সালের ২৪শে
জুলাই-এর ব্যাপক আন্দোলনের প্রস্তুতি সংঘটিত করেছিল। শ্রমিকেরা যেই বিরোধের মূল
কারনের স্পষ্ট বোঝাপড়া লাভ করেছিল, শ্রমিকেরা সাথেসাথে, প্রাদেশিক সরকার টংগাং-এ
নতুন ধাপে বেসরকারিকরণ প্রস্তাব করতেই, বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্যে
দিয়ে তার জবাব দিয়েছিল।
৩। চীনা শ্রমিক শ্রেণির বর্তমান
অবস্থা
৩০ বছরের বেশি সংস্কারের যুগ
অতিবাহিত হবার পর, চীনা শ্রমিক শ্রেণির গঠন, ব্যাপক ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৮০-র
দশকে, অধিকাংশ শ্রমিক শ্রেণি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বা যৌথ মালিকানাধীন উদ্যোগে
কাজ করতো যা, মাও জমানার কিছু ধারাকে বজায় রেখেছিল। ২০১৩ সালে, অবশ্য, গ্রামীণ
অঞ্চল থেকে আসা পারিয়ারি শ্রমিকের সংখ্যা ২৬ কোটি ৯০ লক্ষ যা, শহরের কর্মসংস্থানের
শতকরা ৭০ ভাগ। এই পারিয়ারি শ্রমিকদের মধ্যে ৬২% নিজের শহরের বাইরে গিয়ে কাজ করে
এবং ২৯% নিজের প্রদেশের বাইরে গিয়ে কাজ করে; এদের ৪৭% ১৯৮০ সালের পরে জন্মিয়েছে।
[সুত্রঃ National Statistical Bureau, “Investigation Report on Migrant Workers,2013,” http://www.stats.gov.cn/tjsj/zxfb/201405/t20140512_551585.html.]
টংগাং-এর শ্রমিক এবং
পারিয়ারি শ্রমিকদের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
প্রথমত, টংগাং-এর শ্রমিকেরা
সেখানের শ্রমিক কমিউনিটির-ও বাসিন্দা যেটি, ১৯৫৮ সালে বানানো হয়েছিল। শ্রমিক
কমিউনিটির মানুষেরা পরস্পর পরস্পরকে ভালোভাবে চেনে জানে; আর তাই তাদের নিজেদের
মধ্যে যোগাযোগ করা এবং সংগঠিত হওয়া তাদের জন্য সহজ। টংগাং-এর উন্নতি, সেই
কমিউনিটির সকলের জন্যই প্রাসঙ্গিক। উল্টোদিকে, পারিয়ারি শ্রমিকেরা ভীষণ ভাবে চলমান
যেহেতু, তাদের কাজ অস্থায়ী; পাশাপাশি, শহরের উচ্চ জীবন ধারণের মানকে পোষাতে না
পারলে, তাদের নিজের নিজের হোমটাউনে ফিরে ফেতে হয়।
অতএব, পারিয়ারি শ্রমিকদের
পক্ষে টংগাং-এর মতন একটি শ্রমিক কমিউনিটি বানানো কঠিন।
দ্বিতীয়ত, টংগাং-এর
অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকেরা, মাও জমানা এবং সংস্কারের জমানা – উভয় বিষয়েই অভিজ্ঞ। মাঝ
বয়সী শ্রমিকেরা, যারা ১৯৮০ সাল থেকে কাজ করা শুরু করেছে, তারাও মাও জমানার ধারাকে
এবং সামাজিক পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করেছে। আমি আগেই এটা আলোচনা করেছি, এই ধরণের
অভিজ্ঞতাগুলি টংগাং-এ শ্রমিক সংগ্রামকে শুরু করেছিল। বিপরীতক্রমে, পারিয়ারি
শ্রমিকদের, মাও জমানার কারখানা জীবন সম্পর্কে প্রায় কোনও অভিজ্ঞতাই নেই; অতএব মাও
জমানা এবং সংস্কারের জমানার মধ্যেকার বিরোধ, পারিয়ারি শ্রমিকদের কাছে অনেক ভোঁতা।
এর ফলে, সাধারণত পারিয়ারি শ্রমিকদের লড়াইয়ের লক্ষ, পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের
ভিতকে চ্যালেঞ্জ করবার বদলে, ব্যক্তি পুঁজিবাদীদের শ্রম আইন মানতে জোর করা।
এই পার্থক্যগুলির কারণেই, রাষ্ট্রীয়
মালিকানাধীন উদ্যোগের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের নেতৃত্বে সংগ্রাম এবং পারিয়ারি
শ্রমিকদের সংগ্রাম, একে অন্যের থেকে পৃথক। প্রথম প্রকারের আন্দোলনের ক্ষেত্রে
সাধারণত অর্থনৈতিক কারণ (বেসরকারিকরণ, দুর্নীতি বিরোধী, সরকারের কিছু নির্দিষ্ট
আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রভৃতি) ব্যাতিত অন্য কারণ থাকে; অপরদিকে পরবর্তী প্রকারের
আন্দোলনের ক্ষেত্রে সাধারণত লক্ষ্য থাকে অর্থনৈতিক কারণ (মজুরী বৃদ্ধি, ওভারটাইমের
ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি)। উপরন্তু, শ্রমিক কমিউনিটিকে ধন্যবাদ, প্রথম প্রকারের আন্দোলন
অনুকরণযোগ্য এবং টেকসই; যখন দ্বিতীয় প্রকার আন্দোলন মূলত স্থানীয় ও স্বতঃস্ফূর্ত।
ফলে, যদিও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধিক উদ্যোগের শ্রমিকেরা, শ্রমিক শ্রেণির একটি ছোট
অংশ, তাদের সংগ্রাম, শ্রমিকদের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবার ক্ষেত্রে অনেক বেশি
প্রভাবশালী ও কার্যকরী। দুর্ভাগ্যবশত, এই দুই প্রকারের আন্দোলনের মধ্যে মত বিনিময়
প্রায় দেখাই যায় না।
চীনের পুঁজি সংগ্রহের দিক
থেকে, ২০০৭ সালের বিশ্ব সঙ্কটের ছড়িয়ে পরা অবশ্য, পুঁজি এবং শ্রমের মধ্যে ক্ষমতার
পুনর্গঠনের টারনিং পয়েন্ট বলেই মনে হয়। ২০০৭ সাল থেকে, শ্রমের অংশীদারির কমা বন্ধ
হয়েছে এবং তা বাড়তে শুরু করেছে। সাথে সাথে, ২০০৭ সালের পরে, টংগাং-এর সংগ্রাম এবং
পারিয়ারি শ্রমিকদের সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, সঙ্কটের সময় আরও
প্রতিযোগী হয়ে উঠবার জন্য, পুঁজি, সস্তা পারিয়ারি শ্রমিক ও পাশাপাশি অন্যান্য
সুবিধাজনক শর্তের লক্ষ্যে (উদাহরণস্বরূপ জমি),
উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে চীনের মধ্য ও পশ্চিম অঞ্চলের দিকে বইতে শুরু করেছে।
অবশ্য, চীনের মধ্য ও পশ্চিম অঞ্চলের অর্থনীতির ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন
উদ্যোগগুলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতএব, পুঁজির এই পুনর্বাসন,
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ক্ষেত্রের সংগ্রাম এবং পারিয়ারি শ্রমিকদের সংগ্রামের মধ্যে
আদানপ্রদানের শর্ত প্রস্তুত করতে পারে। চীনের পুঁজি সংগ্রহের বিরোধ এবং শ্রমিকদের
ধারাবাহিক সংগ্রামের বিকাশের সাথে সাথে, চীনের শ্রমিক শ্রেণি একটি নতুন যুগের দিকে
এগিয়ে চলেছে।
@@@ সমাপ্ত @@@



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন