পোস্টগুলি

হয়তো বা!

নদীর পাড়ে ডুব দিলো কে, জোছনা আলোয় চুপ কোরে ? ওমা! ও যে চাঁদের কণা ! এমন বুঝি রোজ করে ? তাইতো বলি, রাত হলে ওই নদীর কেন সাজের ধুম ! নদীর মনে ডুব দেয় চাঁদ, জগত্ যখন চুপ, নিঝুম! দিনটা সারা কাটে বুঝি নদীর খুবই ব্যস্ততায় ? অনেক মানুষ, নৌকা , স্টিমার , সূর্য আলোর মুগ্ধতায় ?  কিন্তু যখন রাত্রি নামে, সুর্য লুকায় দিগন্তে, তখন বুঝি নদীর বুকে সময় কুলায়, একান্তে ? চুপি চুপি , মিষ্টি হেসে চাঁদ আসে ওই আকাশে , ছলছল চোখ নদীর তখন, চাঁদকে ডাকে তার পাশে ? ঝুপ কোরে তাই চাঁদ কি নামে, নদীর বুকে টুপ কোরে ? জড়িয়ে ধরে নদীর শরীর , আলিঙ্গনে? চুপ কোরে ? নদীর চোখে তখনই কি, জোয়ার আসে, উথলে কূল ? চাঁদকে নিয়ে বুকের মাঝে, সাঁতার কাটে? মন আকুল ? তখন ওরা কি গান করে ? কি সুর তার? ছন্দ কি ? সে কথাটা শুধুই জানে, নদী ও তার মানুষটি!

মাও জমানায় চীন (১৯৪৯ - ১৯৭৮) - পর্ব এক

ছবি
টংগাং-এ বন্টন এবং সামাজিক রূপান্তরঃ সমাজতন্ত্রে, সংস্কারের সময় এবং আজকের  দিনে চীনের শ্রমিক মূল রচনাঃ হাও ছি অনুবাদেঃ চারুদত্ত নীহারিকা রজত সংগ্রহ সুত্রঃ Aspects of India’s economy ২০০৯ সালের ২৪-শে জুলাই, চীনের জিলিন প্রদেশের একটি আংশিক বেসরকারি স্টিল উদ্যোগ, টংঘুয়া ইস্পাত কোম্পানির, (এখন থেকে একে আমরা বলবো টংগাং) হাজার হাজার শ্রমিকেরা, প্রাদেশিক সরকারের (রাষ্ট্রীয় অংশীদার) দ্বারা চালু করা বেসরকারিকরণের একটি নতুন পর্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। ক্ষিপ্ত শ্রমিকেরা, বেসরকারি অংশীদারির প্রতিনিধি, চিফ ম্যানেজারকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এই সংগ্রামের সাথে সাথে শ্রমিকেরা, সফল ভাবে, আরও বেসরকারিকরণকে, প্রতিরোধ করে এবং তাদের নিজেদের কাজের নিরাপত্তাকে রক্ষা করে। এই সংগ্রামের দুটি বিশিষ্টতার উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। প্রথমত, চীনের চালু করা পুঁজিবাদীমুখি সংস্কার প্রক্রিয়ার (এবার থেকে শুধু সংস্কার বলা হবে) তিন দশক পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং চীনে বিপুল ভাবে শ্রমিক লে অফ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগগুলির বেসরকারিকরণের দশ বছর অতিবাহিত হয়েছিল। এই সংগ্রাম দেখিয়েছিল যে,  চীনের...

কুবচন

খিস্তির পিছনেতে খুঁজছ কি যুক্তি? শ্রমিকের বস্তি বা কৃষকের মুক্তি? তুমি খালি থাকো নাকি আনাচে ও কানাচে? পেট তুমি ভরো নাকি খিস্তি ও আনাজে? তবে শোনো, তুমি হলে একদম ফাঁকিবাজ, শ্রমিকের আড়ালেতে গাল দেওয়া ধড়িবাজ। শ্রমিকেও লাঠালাঠি করে বর বউ-এতে, তাই বলে, তাই কি গো ঠিক হয় ন্যায়েতে? ‘উইদিন’ খোঁজ করে, কোথা তুমি ‘উইদাউট’? ‘উইদাউট’ করে দেয় ‘উইদিনে’ ‘সর্ট-আউট’। একথাটা লিখে গেছে টাকওয়ালা লেনিনে, তাকে আমি ধরে থাকি; ডাস্টবিনে ফেলিনে। খিস্তির পক্ষে যদি তুমি চলবে, তবে কেন বাপকে খিস্তি না ডলবে? কেন তবে শেখাবে না সন্তানে প্রতিদিন, খিস্তিতে বাঁচাবে না দিনরাত, রাতদিন? আসলে কি জানো খোকা মোদ্দা সে কথাটা? খিস্তি সে কিছু নয়, অবোধের বাতাটা। মার্ক্সবাদ ডাক দেয় সচেতন বদলে, বদলিয়ে নিতে বলে অ-বলা কে সবলে, তার স্থানে ভাসি যদি গুয়ে ভাসা জোয়ারে, শাসকেরই লাভ তাতে, গতি হয় খোঁয়াড়ে। ক্রোধ যদি খিস্তিতে পায় তার মুক্তি, তবে তাতে শাসকের বাড়ে জেনো ভক্তি। কেননা সে ক্ষোভে পোড়ে বক্তার-ই দেহ যে, সিস্টেম হেসে কয়, গালি দুটো আরও দে! হয় না, হয় নি, ইতিহাস বলবে, খিস্তিয়ে দিন কভু...

নভেম্বর বিপ্লবের প্রতি

ছবি
...আমার অন্নসত্রে ক্ষুধা বড় আতুর - মহাকালের স্নিগ্ধ তালে আমার প্রবাহ তীর পায় - প্রতি বাঁচার পরে একবার থামি - শ্বাস নিই - আবার দিগন্তের প্রেমে আকুল হয়ে ... উদ্বাহু হয়ে বাতাস হই - এযে আমার চক্রবৃদ্ধির আয় - এ যে আমার অন্তিমের ইষ্ট - এ যে আমার আদুল মনের আভরণ... চলনে আমার নুপুর বাজে, বচনে বাজে গো সুর, নেশায় আমার বিপ্লবী গান, চেতনে বরবুদুর! তুমি চলে যেও না স্বপ্না - আমার সীমিতের অনুভূতিকে জাগিয়ে রাখো - আমার লোভ ... আমার সম্বল ... আমার মধ্যবিত্ত সুখী যাপন – স্মরণে জাগিয়ে রাখো - ইতিহাসের যতটুকু দায় আমার এই শিরদাঁড়া বইতে পারে ততটুকু বয়ে নিয়ে যেতে দাও ইতিহাসের কামারশালার সিংহদরজায় - আর তারপর……… তোমার সাথে আমি নীহারিকা হবো অপেক্ষায় অনন্তের প্রতি শ্বাস কেন ফেলো বিস্মরণ? তোমার তুমিতো মিশে একাকার আবহমান জীবন-মরণ। সেই রাত কবে ছিলো একাকার জিমুতেন্দ্র রবে; তোমাতে ভৈরবী খোঁজা, একাকার প্রেমেতে, নীরবে? লাল পথে অসীমের মুগ্ধতায় যবে, একাকি অসহায়, বিস্মরণে বয়ে গেছে সে যে, যা ছিল লোহিত কণিকায়। ধূলিময় অসময় কেটে গেছে, নিয়ে গেছে সরল আকুতি; ফেলে আসা প্রান্তরে সেই শোক চাপা দেয়, শিউলি প্র...

শব্দেরা সব

তোমার, আমার শব্দেরা সব মস্ত মস্ত হাতির মতন, বিশাল শরীর দানবপ্রায়; তবুও তো দিন চলে যায়, রাত কেটে যায়, মাস পুড়ে যায়, বছর ফুরায়! গহন রাতে, নিশির ডাকে, শব্দ করে হাজার ঝিঁঝিঁ আঁধার জুড়ে, আমার নেশার ঘুমের তলে, আবাস খোঁজে, খামচে ধরে শব্দ সুরে। দূরে কোথাও শব্দেরা সব শব্দ করে, আগুন পোহায়, পুড়ে মরে, আমার মগজ শব্দ শোনে, শব্দে বাঁচে, শব্দ খোঁজে, শব্দে বাড়ে। হয়তো কোথাও শব্দগুলো ভীষণ রেগে, মূর্তি ধরে, সতেজ, সেয়ান; হয়তো সেথায় শব্দ মানে, হাত-পাওয়ালা, হাতুড়ি আর কাস্তে ধরা মস্ত জওয়ান। শব্দের সেই রূপের খোঁজে আমার সকল অন্তরালের শব্দ ছোটে, ধীরে ধীরে আমার চোখের জমাটবাঁধা আঁধার কাটে, আলোক ফোটে।

বিষম বস্তু

আবেগ বড় বিষম বস্তু মানিতে চাহে না যুক্তি, মাছভাত বলো , ডালভাত বলো, আবেগীরা খোঁজে মুক্তি! কে পেলো বোয়াল, কার বুড়া হাল, কাহারি বা জ্বলে পুচ্ছ? তাহাতেই সুখ, তাহাতে ভাসুক, শ্রেনীর স্বার্থ তুচ্ছ ! হোক পোকা বেল , কিম্বা নোবেল, তোমার তাহাতে কি? ওসব ভাবি না, কিম্বা জপি না শ্রেনীর স্বার্থটি ! মুক্তির পথ, তাহার শপথ, সংস্কারের পথে! আমরা নাচিবো, আমরা গাহিবো, আবেগ নামক রথে।

স্বপনচারিণী

সুন্দরী তোর মত্ত মাতাল প্রেমে, অঙ্গ আমার রস সাগরের খেয়া। আলিঙ্গনে চুম্বনে না থেমে, তোকে পাবার চরৈবেতির ধেয়া। তোকে ছুঁতে কত দেশের পথে, আল্পস, সেন আর ভলগার বাঁক ঘুরে, রক্ত বসনা, অপরূপ তোর রথে,  আমার সকল পুড়ছে প্রেমের সুরে। জড়িয়ে ধরে, পুড়িয়ে দিয়ে যেদিন, আমার সকল অঙ্গ সবশ করে , জড়িয়ে নিবি মিশিয়ে নিবি সেদিন, স্বপন ভোলা নিদ-জাগানির চরে। সেদিন শুধুই খেলা , বাঁশি , কথা, অনেক রূপে অনেক ভাগে এঁকে , আমরা মিলে জোছনা বাস্তবতা, মিলিয়ে নেবো আগুন প্রেমে সেঁকে ।